হোম > সারা দেশ > টাঙ্গাইল

১১ বছর আদালতের বারান্দায় বারান্দায়, হত্যা মামলার রায়ের দাবি স্বজনদের

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

আজ শুক্রবার দুপুরে সখীপুর তালতলা চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নেন নিহত রাজ্জাক মাহমুদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

২০১৫ সালের ১৪ জুলাই, মঙ্গলবার। ওই দিন দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাজ্জাক মাহমুদ (৩০) নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পৌর শহরের ফাহিম সুপার মার্কেটের রক স্টাইল ফ্যাশন হাউজের মালিক রুবেল নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান। রুবেল ওই মার্কেটের মালিক ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশরাফ পাহাড়ির ছেলে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মার্কেট এবং বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেন এলাকাবাসী। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে সখীপুর তালতলা চত্বরে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই দিন পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল।

আলোচিত এ ঘটনার ১১ বছর পর আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিহত রাজ্জাক মাহমুদের স্বজনেরা দ্রুত ও ন্যায়সংগত রায় ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে নিহত রাজ্জাকের বাবা শামসুল আলম, মা রাজিয়া বেগম, উপজেলা বিএনপির সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সখীপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এম আর বি হাসেম, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

নিহত রাজ্জাকের বাবা শামসুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। ১১ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছি। এখনো রায় ঘোষণা হয়নি। প্রতিদিন শুধু একটি প্রশ্নই আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়—ছেলে হত্যার বিচার কি আমরা জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারব?’

রাজ্জাকের মা রাজিয়া বেগম বলেন, ‘ঘটনার পর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের চাপে বিভিন্ন সময়ে আসামি নাছির ও শাহআলমকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা বর্তমানে জামিনে বেরিয়ে বাইরে ঘুরছে। শুনেছি, মূল আসামি রুবেল পার্শ্ববর্তী উপজেলায় আত্মগোপনে আছে। তাদের ধরতে পুলিশ কোনো আগ্রহই দেখায় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ২০১৫ সালেই পুলিশ মামলাটির তদন্তের পর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। আসামিও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা জামিনে এসেছে। এখন বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গাড়ি ব্যবসায়ী রাজ্জাক মাহমুদের এক আত্মীয় ফাহিম সুপার মার্কেটের নিচতলার রক স্টাইল ফ্যাশন হাউজে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় ওই দোকানের মালিক রুবেলের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর রাজ্জাক তাঁর বন্ধুদের নিয়ে ওই দোকানে গেলে রুবেল তাঁদের সঙ্গেও বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রুবেল চাপাতি নিয়ে রাজ্জাককে ধাওয়া করলে তিনি দৌড়ে মার্কেটের দোতলায় ওঠেন। রুবেল সেখানেই রাজ্জাককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজ্জাককে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে সখীপুর তালতলা চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নেন নিহত রাজ্জাক মাহমুদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৃত্যুর খবর সখীপুরে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ মোটরমালিক, শ্রমিক ও এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ফাহিম সুপার মার্কেটে হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁরা রুবেলের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। বিক্ষুব্ধরা সন্ধ্যা পর্যন্ত টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে থাকেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক নাছির উদ্দিন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে নিহত রাজ্জাক মাহমুদের মা রাজিয়া বেগম বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফাহিম সুপার মার্কেটের মালিক আশরাফ পাহাড়ি (৬৬), তাঁর দুই ছেলে রুবেল (৩০) ও শাহআলম (৩৩) এবং তাঁর সমন্ধির ছেলে নাছির উদ্দিনকে (২৬) আসামি করা হয়।

জানতে চাইলে আজ বিকেলে মামলার আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ৩০ জুলাই শুনানি হবে। আশা করছি, দ্রুতই এ মামলার রায় ঘোষণা হবে। আমার বিশ্বাস, আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করা হবে।’

স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যাওয়ার ক্ষোভে নারী সহকর্মীকে হত্যা, শ্রমিক গ্রেপ্তার

রিপোর্টে নরমাল, ফিল্মে ধরা পড়ল হাড় ভাঙা

সখীপুরে সরু বাঁশের সাঁকোতেই পারাপার দুই গ্রামের মানুষের

যমুনার ভাঙনে ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ, ১৪ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

মির্জাপুরে ঘরের বেড়া কেটে স্বর্ণালংকারসহ ৪০ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ

মির্জাপুরে তাবলিগ জামাতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

মির্জাপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত, আহত ১১

নৌকা ভ্রমণে এসে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুই যুবকের মৃত্যু, নারীসহ আহত ৪

অসুস্থতার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যা