টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শিল (নোড়া) দিয়ে মাথায় আঘাত করে ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে (৫৫) হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ছেলে মোস্তফা ভূইয়ার (২২) বিরুদ্ধে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাড়রা আটগ্রাম ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মোস্তফা পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূইয়া নিজ ঘরে ভাত খেতে বসেছিলেন। এ সময় মোস্তফা তাঁর বাবার কাছে টাকা চান। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মোস্তফা ঘরে থাকা শিলপাটার শিল দিয়ে আব্দুর রহিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে আব্দুর রহিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তফা মাদকাসক্ত। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী এলাকায় বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার অবশ্য মোস্তফাকে মানসিক রোগী বলে দাবি করেছে। নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম (৫০) ও বড় মেয়ে সালমা (৩০) বলেন, মোস্তফা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মাঝেমধ্যে বাড়িতে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। ঘটনার সময় তাঁরা কিছু বোঝার আগেই বাবার মাথায় শিল দিয়ে আঘাত করেন মোস্তফা। ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা বলেও দাবি তাঁদের।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আব্দুল কদ্দুস বলেন, মোস্তফা মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তাঁর মস্তিষ্কে সমস্যা ছিল। টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, মোস্তফা ভূইয়া শিলপাটার পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁর বাবা আব্দুর রহিম ভূইয়াকে হত্যা করেছেন। হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।