টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মরিচকুঁড়ি খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের তৈরি সরু একটি সাঁকো। এই খালের দুই পাড়ে কাঁকড়াজান ইউনিয়ন কালিয়া ইউনিয়ন। আর দুঃখজনক হলেও সত্যি দুই ইউনিয়নের যথাক্রমে মরিচকুঁড়ি এবং বাশারচালা গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হলো এই সাঁকো।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মরিচকুঁড়ি ও বাশারচালা গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে মরিচকুঁড়ি খাল। এর ওপর তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলাচল করেন দুই গ্রামের শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বয়োবৃদ্ধরা। এতে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল অসম্ভব। এমনকি আবহাওয়া খারাপ থাকলে মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে কৃষিনির্ভর দুটি গ্রামের ধানসহ বিভিন্ন সবজিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ছাড়া রোগী নিয়ে যাতায়াত কিংবা জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাশের মহানন্দপুর বাজার হয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা সময় বেশি লাগে।
মোশারফ হোসেন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। একা একা বাচ্চাদের স্কুলেও পাঠাতেও ভয় লাগে। একটি সেতু নির্মিত হলে দুই গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী পারভেজ আহমেদ বলেন, গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা বাইসাইকেল নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। খালে পড়ে গিয়ে ভেজা বইপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এ ছাড়া রোগী ও বৃদ্ধ মানুষের পারাপার তো একেবারেই অসম্ভব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকা বাঁশের সাঁকো চিহ্নিত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সাঁকোর জায়গায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।