স্বামী মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে। সংসারের অভাব-অনটন আর স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে দম্পতির মধ্যে তাই ঝগড়া লেগেই থাকত। এ নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়িও ছেলের পক্ষ নিয়ে পুত্রবধূ কণিকা বেগমের (২৫) সঙ্গে ঝগড়া করতেন। আজ শুক্রবার সকালে কণিকা তাঁর সব অশান্তি, কষ্ট আর মান অভিমানের সাঙ্গ করলেন সন্তানকে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার মাধ্যমে!
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, ছয় বছর আগে ধামরাই উপজেলার ঝুরঝুরিয়া গ্রামের কণিকা বেগমের সঙ্গে ধুপুরিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে রাজিব হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের পারিবারিক কলহ শুরু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজিব স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। আজ সকালে কণিকা শিশুকন্যা রাজিয়াকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হলে শ্বশুর নাজিম উদ্দিন তাঁদের বাড়িতে ফিরিয়ে নেন।
সকাল ১০টার দিকে সবার অজান্তে কণিকা বেগম ঘরের ভেতর শিশু রাজিয়াকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর ঘরের ধরনার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জের ধরে মা কণিকা বেগম শিশুকন্যা রাজিয়াকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর নিজেও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’