শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে রিমা আক্তার (১৪) নামের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে নানার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ নিহতের হাতলেখা একটি আবেগঘন চিরকুট উদ্ধার করেছে। নিহত রিমা আন্ধারুপাড়া গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যুর পর থেকে মা ও অন্য দুই বোনের সঙ্গে নানার বাড়িতেই থাকত রিমা। সম্প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে সে অসন্তোষ প্রকাশ করে। স্বজনদের দাবি, প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বসতঘরের ভেতর রিমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
উদ্ধার করা চিরকুটে রিমা তার মায়ের উদ্দেশে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে না পারা এবং পরিবারের পছন্দের বিয়েতে অমতের কথা উল্লেখ করেছে।
চিরকুটে রিমা লিখেছে, ‘মা, তুমি কি একবারও ভাবছিলা, আমি তারে পাইলে সুখ পাব। হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারণ তারে যে আমি ভালোবাসি।’
একই সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনায় কাউকে দায়ী না করার জন্য আকুতি জানিয়ে সে লেখে, ‘এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তোমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও, তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না।’
লাশ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহের পাশাপাশি একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’