শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্টেশনের ভেতরে বহিরাগত এক নারীকে নিয়ে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন একজন বহিরাগত নারীকে নিয়ে স্টেশনের ভেতরে হাত ধরে ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নাচ-গান করছেন। তাঁর এমন আচরণে ফায়ার সার্ভিসের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, তাঁর এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো স্টেশনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাদেরকেও লজ্জায় পড়তে হচ্ছে।
সাতানী শ্রীবরদী মহল্লার মো. মিস্টার মিয়া, মো. হুমায়ুন কবিরসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘একজন অফিসারের এমন কাজ খুবই লজ্জাজনক। তিনি পবিত্র দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বয়স ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। নারী নিয়ে নাচ-গান করা খুবই দুঃখজনক। এমন অফিসারের জন্য পুরো ফায়ার সার্ভিস অফিসের বদনাম হচ্ছে। আমরা তাঁর দ্রুত অপসারণের দাবি জানাই।’
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন অনৈতিক পরিবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন স্টেশন অফিসারের কাছ থেকে যেখানে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নৈতিকতা আশা করা হয়, সেখানে তিনি নিজেই লিপ্ত হয়েছেন সস্তা ও আপত্তিকর বিনোদনে। এই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত শ্রীবরদী উপজেলার ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমি টিকটক করার জন্য ভিডিওটি করেছিলাম। অনেকে টিকটক করে, তাই আমিও করেছিলাম। আপনি একজন স্টেশন অফিসার হয়ে সরকারি দপ্তরের ভেতরে বহিরাগত নারীকে নিয়ে নাচ-গান করে ভিডিও ধারণ করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জামালপুর ও শেরপুরের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন, একজন স্টেশন অফিসারের এমন কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।