‘বাংলাদেশের সীমানার মধ্যেই শুধু থাকি। পড়াশোনা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে কোনো সুযোগ-সুবিধাই পাই না। পোলাপানগুলার পড়াশোনা বাধ্য হয়েই বন্ধ কইরা দিছি। বুনো হাতির আক্রমণ আর নানা দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে যুদ্ধ কইরা প্রতিটা দিন পার করি।’ কথাগুলো শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা খলচান্দা গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের সদস্য সতীশ কোচের (৬৮)।
আজ ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। কিন্তু প্রতিবছর দিবস যায়, দিবস আসে; ভাগ্যের উন্নতি হয় না সতীশ কোচদের। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হয় তাঁদের। নিজের ২৫ শতাংশ জমি থাকলেও বুনো হাতির তাণ্ডবে বছরের পর বছর ফসল ঘরে তুলতে পারেননি সতীশ। তাই এবার আর জমিতে আবাদই করেননি।
নিজেদের সম্প্রদায়ের ভাষায় আক্ষেপ করে সতীশ কোচ বলেন, ‘নিনে কায়ুআন তাল্লাচা’ (কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না)। তাঁর প্রশ্ন, ‘বাপ-দাদার ভিটা ছাইড়া কই যামু? ভালো সুযোগ পাইলে এইহানে কষ্ট কইরা থাকতাম না।’
সতীশ কোচের এই আক্ষেপ শুধু তাঁর একার নয়, স্বাধীনতার পর থেকে একই ধরনের দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে নালিতাবাড়ীর পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ভারতের সীমান্তঘেঁষা খলচান্দা গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের প্রায় ৭০টি পরিবারের। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ মৌলিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত তাঁরা।
জীবন কোচ বলেন, ‘এখানে কেউ অসুস্থ হলে চার কিলোমিটার দূরের বারোমারি বাজার থেকে ভ্যান বা অটো আনতে হয়। তারপর ওই গাড়িতে করে ১৭ কিলোমিটার দূরের উপজেলা হাসপাতালে নিতে হয়।’
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (টিডব্লিউএ) সভাপতি কোপেন্দ্র নকরেক বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি তারা অস্তিত্বের সংকটেও রয়েছে। এ জন্য সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা দরকার।’
গারো পাহাড় বন্য প্রাণী ও নদী রক্ষা পরিষদের উপদেষ্টা বিপ্লব দে কেটু বলেন, ‘দুর্গম যোগাযোগ, শিক্ষা-চিকিৎসার সংকট ও বুনো হাতির আতঙ্কে খলচান্দার কোচদের জীবন প্রতিনিয়ত সংগ্রামের।’
শেরপুর-২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী বলেন, ‘খলচান্দার যোগাযোগব্যবস্থা বেহাল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্ষা গেলেই এ বিষয়ে ইউএনও ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’