শেরপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের জেলা কারাগারের সামনে শেরপুর-শ্রীবরদী সড়ক অবরোধ করেন তারা। দুই ঘণ্টাব্যাপী অবরোধের ফলে সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্ট হয়। পরে খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফ হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়।
সাইফ হত্যার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছেন দিঘারপাড় মহল্লার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে শান্ত হাসান (১৯), একই মহল্লার লেবু মিয়ার ছেলে মো. স্বাধীন (১৯) ও গৌর বর্মনের ছেলে সজীব বর্মন (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শহরের দিঘারপাড় এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে পুলিশি রিমান্ডের আবেদনসহ তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেলে শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন সাইফ। এ সময় ছবি তোলাকে নিয়ে কয়েকজন কিশোর-তরুণের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ১০-১৫ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইফকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফ। নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেক ও রেবেকা সুলতানা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’