শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভার একমাত্র মাছ বাজারটি যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের চারদিকে ময়লার স্তূপ। ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। একদিকে পচা পানির দুর্গন্ধ, অন্যদিকে এই নোংরা পানিতে জন্ম নিচ্ছে মশা। অন্যদিকে মাছ বাজারের পাশের শেডে প্রতিদিন গরু জবাই করা হয়। নিয়মিত গরুর বর্জ্য পরিষ্কার করা হয় না। সেই সঙ্গে গরুর চামড়া খোলা শেডে লবণ দিয়ে রাখা হয়। গরুর বর্জ্য ও চামড়ার গন্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালনকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সচেতন মহল। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দাবি সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় গ্রহণ করা হোক।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ বাজারের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি রয়েছে। পাশের খোলা শেডে গরুর বর্জ্য ও চামড়া। নিয়মিত গরু জবাই হয় বাজারের ভেতরেই। কিন্তু নিয়মিত পরিষ্কারের কথা থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বাজারজুড়ে। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।
মাছ ব্যবসায়ী আলাল মিয়া বলেন, ‘ড্রেন ও গরুর ময়লা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। তাই ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমাদের দাবি, পৌর প্রশাসক এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করবে।’ অনেক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে কি লাভ? কাজ তো হয় না।’
গত সোমবার দুপুরে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কৃষ্ণ দয়াল রায় বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ তদারকি করে নিয়মিত পরিষ্কারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি গরু জবাই করার স্থানটি সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মনীষা আহমেদ বলেন, বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তদারকি করার জন্য কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পরপরই ময়লার গাড়ি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাছ বাজারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। তবে মাছ বাজারের পরিবেশের কোনো উন্নতি হয়নি।