শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে অনশনে বসেছেন তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হোসেন আলী।
গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যালয়ের ফটকের পাশে অবস্থান নেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় আরও কয়েকজন সেখানে জড়ো হন।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ফটকের পাশে চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন হোসেন আলী। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। এ সময় স্থানীয় ১০-১৫ জন নারী-পুরুষ হোসেনের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সেখানে জড়ো হন।
হোসেন আলী বলেন, ‘গত ১৪ বছর ধরে বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করি। গত ৯ বছর ধরে আমাকে কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। অথচ এখন আমাকে ওই কক্ষ ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে।’
হোসেন বলেন, ‘আমার বেতন-ভাতা পরিশোধ করে দিলে এখনই আমি কক্ষ ছেড়ে চলে যাব।’
হোসেন আলীর অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের একটি সাইকেল চুরির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন ও কর্মচারী আকাব্বর তাঁকে চেয়ারে বেঁধে মারধর করেন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় জেলও খাটতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, ‘সাইকেল চুরির মিথ্যা অভিযোগে আমার স্বামীকে খোকন স্যারসহ অন্যরা দড়ি দিয়ে চেয়ারে বেঁধে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে মারধর করেন। আমি বারবার দরজা খুলতে বললেও তাঁরা দরজা খোলেননি। গতকাল বিকেলে আমাদের চলাচলের রাস্তার গেটেও তালা দিয়েছেন খোকন স্যার।’
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘হোসেনকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষ। অনেক কষ্টে সংসার চালায়। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির মামলা দেওয়া হয়েছে। নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য টাকার বিনিময়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আপত্তিকর কিছু জিনিস পেয়ে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হোসেন আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এর পর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হোসেন জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে অবস্থান করে আসছেন।’
তৌহিদুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘হোসেন আলী সাত বছর ধরে বিদ্যালয়ের কেউ নন। তাই তাঁর কোনো বকেয়া বেতন নেই। বিদ্যালয়ে এভাবে বসবাস করারও কোনো সুযোগ নেই। তাই আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে কক্ষটি খালি করে তাঁকে চলে যেতে বলা হয়েছে।’
সাইকেল চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে খোকন বলেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি সাইকেল চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে থানায় জানানো হয়। পুলিশ এসে হোসেন আলীকে নিয়ে যায়। তাঁকে কোনোরকম মারধর করা হয়নি। তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই অনশন শুরু করেছেন।’