শেরপুরের নকলায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভ্যানচালক আবদুল মন্নাছ হত্যার ঘটনায় প্রায় তিন বছর পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় নিহত ভ্যানচালকের স্ত্রীর করা মামলায় গতকাল মঙ্গলবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নকলা পৌরসভার মোস্তাকিন (৩০), মো. শাহীন (৪০) ও স্বপন।
নিহত আবদুল মন্নাছ (৪৩) নকলা থানার পাটাকাটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর সকালে জামালপুরের পাটাকাটা মধ্য সাকিন এলাকার বাঘমারি বিলের একটি জমিতে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। কাদা ও কচুরিপানার নিচে লাশটি পুঁতে রাখা হয়েছিল।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবদুল মন্নাছের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁকে কৌশলে বাঘমারি বিল এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মন্নাছকে মারধর করেন মোস্তাকিম, শাহীন ও স্বপন। একপর্যায়ে মন্নাছ মারা গেলে আসামিরা তাঁর লাশ কাদা ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ভ্যানটির লোহার বডি আট হাজার টাকা ও চারটি ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নকলা থানা এলাকা থেকে মোস্তাকিম ওরফে মোস্তাকিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল নকলা পৌরসভা এলাকা থেকে মো. শাহীন (৪০) ও মো. স্বপনকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআই আরও জানান, ভ্যান ছিনতাই করতেই পরিকল্পিতভাবে মন্নাছকে বাঘমারি বিল এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।