হোম > সারা দেশ > শরীয়তপুর

ঘুষ চাওয়ার অডিও ভাইরাল: জাজিরা থানার সেই এসআই প্রত্যাহার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

এসআই রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

১০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অডিও রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার পর শরীয়তপুরের জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেছে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়। একই সঙ্গে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জাকারিয়া রহমান।

আজ বুধবার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাকারিয়া রহমান।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন ইতি আক্তার।

এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে সালিস হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রাতে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্বামী সাত্তার শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ইতি আক্তার। অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রফিকুল ইসলাম।

তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর ১০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর নিকটাত্মীয় সৌদিপ্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের সময় টাকা পাঠানোর জন্য নিজের বিকাশ নম্বর দেন এসআই রফিকুল ইসলাম। ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে অডিও কথোপকথন যাচাই-বাছাই করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে রফিকুল ইসলামকে জাজিরা থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান বলেন, উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলমান।

জাকারিয়া রহমান বলেন, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।