হোম > সারা দেশ > শরীয়তপুর

শরীয়তপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বন্ধের আদেশ অমান্য করে চলছে হলিহার্ট হাসপাতাল

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুর জেলা শহরের হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাময়িক বন্ধের আদেশ অমান্য করে শরীয়তপুর জেলা শহরের হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার অভিযোগ উঠেছে।

প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র না থাকায় গত ৩ মে প্রতিষ্ঠানটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই আদেশর পরও হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি, চিকিৎসাসেবা, সিজারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে সদর উপজেলা প্রশাসন স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় শরীয়তপুর শহরের ডা. এমএ দাউদ জেনারেল হাসপাতাল, ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই জরিমানা করার পাশাপাশি সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ মেনে ডা. এমএ দাউদ জেনারেল হাসপাতাল ও ডক্টরস পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। সেখানে রোগী ও স্বজনদের উপস্থিতি রয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য কার্যক্রমও চলতে দেখা যায়।

হাসপাতালের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ওমর খান বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট এসে আমাদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে এবং সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এরপর আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে সিভিল সার্জনের কাছে যাই। সিভিল সার্জন কাগজপত্র দেখে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিয়েছেন।’

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে শহরের হলিহার্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হলে সেটি পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। আমি কোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিইনি।’ সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘কেউ যদি মোবাইল কোর্টের আদেশ অমান্য করে হাসপাতাল চালু রাখে, তাহলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’