শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের ২ মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কের এমন বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। এ সময় সড়কের নির্মাণকাজের মান যাচাই, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ চলার সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যাওয়ায় নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, জনগণের অর্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এত অল্প সময়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক নয়। তাই নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ এবং প্রকৌশলগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমামুল হক বেপারি বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের পর আমরা ভেবেছিলাম দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। কিন্তু দুই মাস না যেতেই বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গর্ত হয়ে গেছে। এত টাকা খরচ করে করা কাজ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এর দায় কে নেবে?’
শরীয়তপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাকার মাথা থেকে আটং তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজ। কাজটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় চার কোটি টাকা এবং মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। গত জুনে সংস্কারকাজ শেষ করে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এরপরই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পৌরসভা সূত্র আরও জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে বাস্তবায়ন করেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এইচএম জাকির হোসেন।
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার এইচএম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সড়ক সংস্কারে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। কাজের নকশা ও প্রাক্কলন অনুযায়ীই সংস্কার করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হবে।
সড়ক সংস্কারকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা শরীয়তপুর পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মামুন গাজী বলেন, সড়কটি সংস্কারের পরপরই টানা কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পুনরায় সংস্কার করা হবে। ঠিকাদারের সম্পূর্ণ বিল এখনো দেওয়া হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন জেলা শহরে যাতায়াত করে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে মানসম্মত মেরামতের তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা।