শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এনামুল হক সরদার (৫০) নামে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরের দিকে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার তুলাসার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এনামুল হক সরদার তুলাসার ইউনিয়নের বাইশরশি জামে মসজিদের ইমাম এবং একই ইউনিয়নের রাজাগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনামুল হক সরদার প্রায় ১০ বছর যাবৎ বাইশরশি জামে মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। এর পাশাপাশি তিনি ওই মসজিদের মক্তবে সকালে এলাকার ছেলে-মেয়েদের আরবিসহ ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছেন।
মঙ্গলবার ভোরে ১০ বছর বয়সী ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী তার ছোট ভাইকে নিয়ে বাইশরশি মসজিদের মক্তবে পড়তে যায়। তখনো অন্য কোনো ছাত্রছাত্রী মক্তবে আসেনি। এ সুযোগে শিক্ষক এনামুল হক ওই ছাত্রীর ছোট ভাইকে পানি আনতে কলে পাঠিয়ে ওই ছাত্রীকে নিপীড়ন করেন। ছোট ভাই কল থেকে পানি নিয়ে ফিরে এলে ওই ছাত্রী চিৎকার দিয়ে ওঠে। পরে তারা দুই ভাইবোন কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে বাড়ি চলে যায় এবং ঘটনা সে তার মাকে বলে। পরে দুপুরের দিকে তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শিক্ষক এনামুল হক সরদারকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় শিক্ষক এনামুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তবে ইমাম এনামুল হক সরদারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এনামুল হক নামে এক ইমামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ দুপুরের দিকে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।