শরীয়তপুর সদর ও ডামুড্যা উপজেলায় দেড় বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে। এ কারণে জমি কেনাবেচা ও দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দুই উপজেলার মানুষ। এ ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় দলিল লেখকেরা কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দলিল লেখকেরা জানান, অন্য উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন আসেন। আর ওই দুই দিনই কেবল দলিল নিবন্ধনের সুযোগ মেলে। সদর উপজেলায় জমি কেনাবেচার হার তুলনামূলক বেশি। কিন্তু নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি বা কিনতে গিয়ে অনেককে নির্ধারিত দিনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া সপ্তাহে দলিল নিবন্ধনের দুই দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে দলিল লেখকদের কার্যত কর্মহীন থাকতে হচ্ছে। ফলে তাঁদের আয়-রোজগার কমে গেছে।
শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. সাগির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অন্য উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তাহে দুই দিন এসে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকেরাও নিয়মিত কাজ করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সমিতির সাবেক সভাপতি মো. নুরুল হক বলেন, জেলা সদরে জমি কেনাবেচা বেশি হওয়ায় এখানে একজন নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার থাকা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় দলিল লেখকদেরও কাজের সংকট তৈরি হচ্ছে।
দলিল লেখক বাবুল বেপারী বলেন, কিন্তু সপ্তাহে দুই দিন কাজ হওয়ায় আগের মতো আয় হচ্ছে না। বাকি দিনগুলোতে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, জমি কেনাবেচা অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে করতে হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট দুই দিনের বাইরে দলিল নিবন্ধনের সুযোগ না থাকায় অনেকের জমি বিক্রি বা কেনার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
ডামুড্যা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সাগর জানান, দেড় বছরের বেশি সময় ডামুড্যাতে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। সপ্তাহে মাত্র এক দিন অন্য উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে এ উপজেলার জমি কেনাবেচা ও দলিল নিবন্ধনে অনেককে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন বলেন, শরীয়তপুর সদর ও ডামুড্যায় সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।