সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া গেছে। গোপনে সাতক্ষীরার বাইরে থেকে কাজি এনে এসব বিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিভাবকেরা প্রশাসনের কাছে স্বীকার করেছেন এবং মুচলেকা দিয়ে মেয়েদের আবার বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নির্দেশে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে অভিভাবকেরা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া মুচলেকায় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েদের শ্বশুরবাড়িতে না পাঠানো এবং তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোঁজখবর ও তদারকির জন্য একজন কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, প্রথমে ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির পাঁচজন ও দশম শ্রেণির ছয়জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ের তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে একই বিদ্যালয়ের আরও দুই ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিব হোসেন বাবলা বলেন, গত ৩১ আগস্ট ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি ১১ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের তথ্য জানতে পারেন। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।