হোম > সারা দেশ > সাতক্ষীরা

দুধ বেচে খরচ উঠছে না, হতাশ তালার খামারিরা

সেলিম হায়দার, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহের জন্য ড্রামে ভরা হচ্ছে দুধ। সম্প্রতি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা গ্রামের প্রশান্ত কুমার ঘোষের খামারে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকারি হিসাবে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় ৬৫ হাজার পরিবারের বসবাস। তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৭২৫টি খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ হাজার লিটার মিটিয়ে বাকি দুধ খুলনা, সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্যের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছেন প্রান্তিক খামারিরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এই উপজেলার চিত্র বদলে গেছে। খামারের কারণে বদলে যাচ্ছে এই উপজেলার অর্থনীতি। তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় তালা সদর ইউনিয়নে। এর পাশাপাশি খলিলনগর, খলিষখালী ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হচ্ছে।

উৎপাদন বাড়লে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা। জেয়ালা গ্রামের খামারি প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেন, এক কেজি গোখাদ্যের দাম বেড়ে বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে। অথচ প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। প্রায় ৫১ বছর ধরে গরু পালন করে আসা এই খামারির বর্তমানে ফ্রিজিয়ান, জার্সি ও হাইব্রিড জাতের ৪৫টি গাভি রয়েছে। এগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। তিনি বলেন, এখন খরচ উঠলেও লাভ থাকে না, পরিশ্রমটাই বৃথা যাচ্ছে।

একই গ্রামের আরেক খামারি পার্থ মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের জেয়ালা গ্রাম এখন দুগ্ধপল্লি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। আমি তিনটি গাভি পালন করি। কিন্তু খাদ্যের যে দাম, তাতে দুধ বিক্রি করে খরচই ওঠে না।’

খামারিরা দাম কম পাওয়ার কারণ উল্লেখ করে দুধ সংগ্রহকারী সুবীর ঘোষ বলেন, মহাজনদের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ২০ বছর ধরে ছোট খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে আসছেন তিনি। দুধ বর্তমানে ৪৭ টাকা লিটার দরে মহাজনের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। রোদ, বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাঁর দাবি, তিনি খুব বেশি লাভ করতে পারেন না।

এদিকে গরুর খাদ্যের সংকট মেটাতে খামারিরা ঘাস চাষও বাড়িয়েছেন। বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ২০ একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ঘাস চাষ হচ্ছে। অনেকে এটিকে আলাদা ব্যবসা হিসেবে গড়ে তুলেছেন। প্রায় ৪০টি স্থানে নিয়মিত ঘাস বিক্রি হওয়ায় খামারিদের জন্য সহজলভ্য খাদ্য নিশ্চিত হচ্ছে।

তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুম বিল্লাহ বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন এবং উন্নত জাতের গবাদিপশু ব্যবহারের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও টিকাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে তালা উপজেলার দুধশিল্প জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

মাকে পিটিয়ে দাঁত ভেঙে ফেলার অভিযোগ শিক্ষক ছেলের বিরুদ্ধে, থানায় মামলা

সাতক্ষীরার বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে ৭৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস

সংবাদ প্রকাশের পর তালায় কাবিটা প্রকল্পের রাস্তার কাজ শুরু

তালায় কাজ না করে কাবিটা প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সাতক্ষীরায় ডোবা থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরায় দেশের প্রথম ‘অভিযোজন দুর্গ’ উদ্বোধন, তাপপ্রবাহে সুরক্ষা পাবে উপকূলীয় মানুষ

সাতক্ষীরার তালায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, হাজারো মানুষের ভিড়

সাতক্ষীরায় ক্রীড়া অফিসারের অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

তালায় রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাক্টরে মাটি বহন, হুমকিতে গ্রামীণ সড়ক

১১ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেধা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন প্রদর্শনী