সাতক্ষীরার শহরতলির তালতলা এলাকার বিসমিল্লাহ ফুডসের কর্মচারী কোহিনুর খাতুনকে হত্যার ঘটনায় মালিক আব্দুস সোবহানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের লস্করপাড়াস্থ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিহতের ভাই সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের খেলারডাঙা গ্রামের ইমরান হোসেন বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতক্ষীরা শহরতলির তালতলা এলাকার আব্দুল খালেকের জলাবদ্ধ জমি থেকে কোহিনুর খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেলারডাঙা গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের ভাই ইমরান হোসেন জানান, ১৭ বছর আগে পাটকেলঘাটার লালচন্দ্রপুর গ্রামের আবু মুছার সঙ্গে আমার বোন কোহিনুর খাতুনের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে বোনজামাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় কোহিনুর ও তাদের একমাত্র সন্তান মোহাম্মদ মুন্নাকে নিয়ে আমাদের এখানে চলে আসে। পরে সে মাসিক আট হাজার টাকা বেতনে কাটিয়া লস্করপাড়ার আব্দুস সোবহানের মালিকানাধীন তালতলার ‘বিসমিল্লাহ ফুডস’ কারখানায় কাজ করত।
কোহিনুর খাতুনের সহকর্মী এক শ্রমিক জানান, বিসমিল্লাহ ফুডসের মালিক আব্দুস সোবহানের সঙ্গে কোহিনুর খাতুনের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে কারখানায় এসে প্রায়ই গণ্ডগোল করত মালিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে কোহিনুর খাতুনকে সোমবার রাতে কারখানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুবর রহমান জানান, কোহিনুরকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তার ভাই ইমরান হোসেন বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে বিসমিল্লাহ ফুডসের মালিক আব্দুস সোবহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এসআই শাহাদাৎ হোসেনকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে।