হোম > সারা দেশ > সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা-ভেটখালী: বিদ্যুতের খুঁটিতে শ্লথ মহাসড়কের কাজ

আবুল কাসেম, সাতক্ষীরা 

মহাসড়কের কিছু বৈদ্যুতিক খুঁটি বর্ধিত অংশে সরানো হলেও বেশ কিছু এখনো আগের স্থানে রয়ে গেছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরার দেবহাটার গাজীরহাট এলাকায়। আজকের পত্রিকা

বিদ্যুতের খুঁটি সময়মতো না সরানোয় ধীরগতিতে চলছে সাতক্ষীরা সদর থেকে ভেটখালী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ। এ কারণে দুই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ। একদিকে নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে তাঁদের যাতায়াতে ভোগান্তি দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের জন্য দিনভর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, চলতি বছরের জুনে আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশের ১ হাজার ২০০টি বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কথা থাকলেও এ পর্যন্ত সরানো হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কাজের ধীরগতির জন্য দায়ী করেছেন খুঁটি সরাতে পল্লী বিদ্যুতের নিয়োজিত ঠিকাদারদের গড়িমসিকে। সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলেছে, তাঁরা আশা করছে সেপ্টেম্বরে না হলেও অক্টোবরের মধ্যে খুঁটি সরানো শেষ হবে।

সাতক্ষীরার সওজ বিভাগের সূত্র জানায়, ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা সদর থেকে শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ভেটখালী পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজ চলছে। পাঁচটি প্যাকেজে কাজগুলোর কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পটি শেষ করার কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়নি। ফলে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগে মহাসড়কটি ছিল ২৪ ফুট প্রশস্ত। এখন ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হচ্ছে। বর্ধিত ১০ ফুটের মধ্যে পড়েছে ১ হাজার ২০০টি বিদ্যুতের খুঁটি। এসব খুঁটি সরিয়ে মহাসড়কের বর্ধিত কিনারায় বসাতে বরাদ্দ রয়েছে ১১ কোটি টাকা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে এই টাকাও দেওয়া হয়েছে। খুঁটি সরিয়ে পুনঃস্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গত বছরের জুলাইয়ে ছয়জন ঠিকাদারকে কাজ দেয়। চলতি বছরের জুনে খুঁটি সরানোর কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ খুঁটি সরানো হয়েছে।

নির্মাণাধীন আঞ্চলিক এই মহাসড়কের দেবহাটার গাজীরহাট এলাকায় সম্প্রতি গিয়ে দেখা যায়, কালভার্ট নির্মাণের জন্য রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। চলাচলের জন্য নির্মিত হয়েছে বাইপাস সড়ক। মহাসড়কের প্রায় মাঝখানে রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে কোনোরকমে এক দিকে চলাচল করছে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন। অন্য প্রান্তে তখন ব্যাপক যানজট।

গাজীরহাটের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সড়কের লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি না সরানোর কারণে তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ হোক।’

কালীগঞ্জের মৌতলার বাসিন্দা মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘খুঁটি সরানোর অজুহাতে সারা দিন বিদ্যুতের শাটডাউন থাকে। দুর্ভোগের শেষ নেই।’

সাতক্ষীরা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিলে টেন্ডার হয়। তাঁরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চূড়ান্ত ইউটিলিটি বিল দেওয়ার সময়সীমা দিলেও চূড়ান্ত প্রাক্কলন দিতে ১ বছরের বেশি সময় নিয়েছে। পরে প্রশাসনিক কাজ শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনে আরও কিছুদিন লাগে। এরপর পল্লী বিদ্যুৎকে ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পল্লী বিদ্যুতের নিয়োগ করা ঠিকাদার কাজ করতে গড়িমসি করছেন। বারবার যোগাযোগ করেও তাঁদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। খুঁটি না সরালে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করা যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার শাহবাজ খান বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা ছাড়া কাজ করা যায় না। কিন্তু সারা দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। তবু আমরা কাজ করছি। কিছু এলাকায় কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আজিজুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যেকের তাড়া রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর। আমাদের ৫৫ ভাগের বেশি কাজ হয়ে গেছে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ না করতে পারলেও অক্টোবরের মধ্যে শেষ করা যাবে।’