সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৃদ্ধ মাকে মারধর করে দাঁত ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছেলে ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
আজ রোববার (২৮ জুন) মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৭২) শ্যামনগরের কলবাড়ী গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম গাজীর স্ত্রী। মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম (৫৩) বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তাঁর স্ত্রীর নাম ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণা (৪৫)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগমের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন না। এক দশক আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর নামে থাকা সম্পত্তি ছেলে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এরপর মায়ের ভরণপোষণ বহন না করে তাঁকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২৬ জুন দুপুরে বড় ছেলে ও পুত্রবধূ লাঠিসোঁটা নিয়ে আনোয়ারা বেগমের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে ছেলে মনিরুল ইসলাম লাঠি দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাত মুখে লেগে সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। পাশাপাশি তাঁর ঠোঁট ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত হন। পরে পুত্রবধূ ঝর্ণা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তাঁর নাক ফেটে যায়।
এ সময় আনোয়ারা বেগমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর মেয়ে নাছিমা খাতুনকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।