সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে (মব জাস্টিস) ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম (৩৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (তৃতীয় আদালত) নুসরত জাহানের খাস কামরায় উপস্থিত হয়ে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত ১০টার দিকে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ফজলুল হক আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। পেশায় তিনি মোটরসাইকেলচালক।
কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের বাসিন্দা বসির আহম্মেদ জানান, ফজলুল হক আমিনী তাঁর আপন চাচাতো ভাই। ২৮ বছর আগে তাঁর চাচা কারি রুহুল আমিন সপরিবারে দেবহাটার দক্ষিণ পারুলিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ফজলুল হক মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শামীম হত্যার পর তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। শনিবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের বেসরকারি বিমা কর্মী বসির আহম্মেদের বাড়ি থেকে ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রাত ৭টার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি ওয়াহেদুজ্জামান হত্যা মামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
আদালতের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে ফজলুল হক আমিনী দাবি করেন, ওয়াহেদুজ্জামান শামীম নাস্তিক ছিলেন। তাঁকে হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না, ঘটনাটি ‘এক্সিডেন্টলি’ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আপাতত আইনের দৃষ্টিতে তিনি অপরাধী হলেও আল্লাহর দৃষ্টিতে তিনি কী, তা আল্লাহই ভালো জানেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের নামও প্রকাশ করেন বলে সূত্রটি জানায়।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর রোববার রাত ১০টার দিকে ফজলুল হক আমিনীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৩ অক্টোবর দেবহাটায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে ওয়াহেদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবক গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যান। তিনি উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ফজলুল হক আমিনীকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৫ ও ৬ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।