দুর্গাপূজা সামনে রেখে সাতক্ষীরার মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোয় চলছে প্রস্তুতি। কোথাও বাঁশ-খড়ের কাঠামো, কোথাও মাটির প্রলেপ, আবার কোথাও প্রতিমার মুখাবয়ব ও অলংকারে চলছে নিখুঁত কারুকাজ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
তবে এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমা তৈরিতে কৌতূহল তৈরি করেছে সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিমা। মাটির অবয়বের ওপর দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে দেবীদুর্গা। আয়োজকদের দাবি, দেশে প্রথমবার দেশলাই কাঠি আর রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর দুর্গাপূজা মণ্ডপে মাটির তৈরি প্রতিমার শরীরজুড়ে বসানো হয়েছে দেশলাই কাঠি। কোথাও পাশাপাশি, কোথাও নির্দিষ্ট নকশায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেশমি সুতার সূক্ষ্ম কারুকাজ। তবে এখনো প্রতিমার কাজ শেষ হয়নি। কাঠি ও সুতার কাজ শেষে রঙের প্রলেপ পড়বে। তখনই ফুটে উঠবে প্রতিমার পূর্ণ সৌন্দর্য।
প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার বলেন, ‘২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে একটি কারখানায় দেশলাই কাঠি আর রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শিখি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর মন্দিরে নতুনভাবে প্রতিমা তৈরির চেষ্টা করেছি।’
জেলা দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ অমিত ঘোষ বলেন, ‘গত বছর এ মন্দিরে ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি হয়েছিল। সেটি দেখতে প্রচুর মানুষ এসেছিলেন। এবার কমিটি ও ভাস্করের সঙ্গে আলোচনা করে দেশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমরা মনে করছি, দেশের মধ্যে এটি অনন্য আয়োজন। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা দেখতে অনেক দর্শনার্থী আসবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।’
আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা কানাই লাল কানু বলেন, ‘চারজন শিল্পী এক মাসের বেশি সময় ধরে দেড় লাখের বেশি দেশলাই কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি করছেন দেবী দুর্গা ও অন্য ৫টি প্রতিমা। এ আয়োজনের খরচ ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’
কানাই লাল কানু আরও বলেন, দেশলাই কাঠির ওপর বিশেষ ধরনের মেডিসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বাতাসে থাকার কারণে কাঠির বারুদের কার্যকারিতাও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বিস্ফোরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।