সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ, বেতনা, ইছামতিসহ বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নির্দেশনার আলোকে ৩০২ জন অবৈধ দখলকারীকে চিহ্নিত করে উচ্ছেদ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার থেকে নদী ও খালে স্থাপিত অবৈধ নেট-পাটা অপসারণে অভিযান শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব (এসএ) শাখা সূত্রে জানা গেছে, সরেজমিন তদন্ত শেষে কপোতাক্ষ, বেতনা, মরিচ্চাপ, আদি যমুনা, মাদার, খোলপেটুয়াসহ বিভিন্ন নদী ও নৌ-খালের তীরে অবৈধ দখলদার হিসেবে ৩০২ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের তালিকা ইতিমধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত ভূমিহীনদের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী ও খালের তীর স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যুদের দখলে রয়েছে। সরকারি জমি দখল করে সেখানে স্থায়ী বসতবাড়ি, ইটভাটা, মাছের ঘের এবং ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কপোতাক্ষ নদের তীরে ১১৫ জন এবং ইছামতী নদীর তীরে ১০ জনসহ মোট ৩০২ জন ব্যক্তি নদী ও নৌ-খালের তীর দখল করে আছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ভূমিহীন হিসেবেও তালিকাভুক্ত।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা মৌজায় বেতনা নদীর তীর দখল করে একটি কারখানা নির্মাণের তথ্য পাওয়া গেছে। একই উপজেলার বাবুলিয়া মৌজার একটি নৌখাল দখল করে ইটভাটা নির্মাণেরও সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে জেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান নদী আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে কোনো দখলদারের টিকে থাকার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে যে ৩০২ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়।’
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে নদী ও খালের অবৈধ নেট-পাটা অপসারণের অভিযান চলছে। পরবর্তী ধাপে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই জড়িত থাকুন না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’