সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া খানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শুইলপুর এলাকা থেকে তাঁর এক সহযোগীসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার নাহিদ হাসান সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। তাঁর সহযোগী অমিত হাসান ওরফে শিপন হাসান (৩০) একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পুলিশের কাছে আসে। এর ভিত্তিতে সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযান চালিয়ে সীমান্তবর্তী একটি এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাহিদ হাসান এবং জাকারিয়া হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২ অক্টোবর শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে নাহিদসহ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরোধ বাধে।
এ সময় বাপ্পি হাসানকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে কলেজছাত্র জাকারিয়া নাহিদের ছুরিকাঘাতের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত জাকারিয়ার ভাই শাহরিয়ার খান বাদী হয়ে শনিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার ভোরে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুহিদ হাসান বনিকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।