সাতক্ষীরার তালায় ভুল অস্ত্রোপচারে সাধন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা। ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও পুলিশ বলছে, সেখানে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে তালা মেলাবাজার এলাকায় অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত সাধন বিশ্বাস খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের কার্তিক বিশ্বাসের ছেলে। স্বজনদের দাবি, প্রায় এক মাস আগে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তাঁকে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায়ের পরামর্শে সেখানে ডা. আব্দুর রহমান তাঁর অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম অস্ত্রোপচারের কিছুদিন পর অস্ত্রোপচারে ত্রুটি হয়েছে জানিয়ে ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় নিজেই দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করেন। এরপর সাধনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচারের পর শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
সাধনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মরদেহ নিয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয় এবং মালিক বিধান চন্দ্র রায় বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকের সামনে কিছু লোকজন জড়ো হয়েছিল। তবে সেখানে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুই পক্ষের সমঝোতায় বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।’
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ‘আজ সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার অফিস সময়ে চিঠি ইস্যু করা হবে।’