রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ‘৭১-এর বিজয়’ ও ‘নয়ন মণি’ দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো দর্শনার্থী। নৌকা বাইচকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে করতোয়া নদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই নদীর দুই তীরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় জমে। আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দুরান্ত থেকে নৌকা ও বিভিন্ন যানবাহনে করে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন প্রতিযোগিতা দেখতে।
নৌকা বাইচ শুরু হলে ঢাক-ঢোল, করতালি ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকাগুলো নদীর বুক চিরে দ্রুতগতিতে ছুটে চললে দর্শকদের মধ্যে দেখা দেয় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রিয় দলের নৌকাকে উৎসাহ দিতে অনেকেই স্লোগান ও করতালিতে মাতিয়ে তোলেন পুরো এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা নাঈম মিয়া বলেন, ‘নৌকা বাইচ আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ। এমন আয়োজন দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে এসেছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা লিমন মিয়া বলেন, ‘নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। প্রতিবছর এমন আয়োজন হলে নতুন প্রজন্মও আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।’
প্রতিযোগিতার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ‘৭১-এর বিজয়’ ও ‘নয়ন মণি’ দল। উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে জয়লাভ করে নয়ন মণি দল।
স্থানীয়রা আরো জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে প্রতিবছরই এ অঞ্চলে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে এমন আয়োজন স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীদেরও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে করতোয়া নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে নৌকা বাইচের দৃশ্য দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
আয়োজকেরা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে পরিচিত করা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতিকে ধরে রাখতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা তাঁদের।
নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। নদীর দুই পাড়ে বসে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান ও খাবারের স্টল। সব মিলিয়ে দিনভর করতোয়া নদীর তীরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।