আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষ্মা আক্রান্ত কর্মী নূর ইসলামকে রোগীদের খাবারের স্বাদ পরীক্ষা ও রান্নার কাজ তদারকির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নূর মোহাম্মদের পরিবর্তে রান্নাঘরে অন্য একজন নারী কর্মী কাজটি করছেন।
গত মঙ্গলবার দৈনিক আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়, সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত রান্নাঘরের কর্মী নূর ইসলাম যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার পরও নিয়মিত রান্নাঘরে যাতায়াত করতেন। সহকর্মীদের অভিযোগ, তিনি রোগীদের জন্য রান্না করা ডাল, তরকারিসহ বিভিন্ন খাবারের স্বাদও পরীক্ষা করতেন।
সহকর্মীদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের জন্য রান্নার কাজে নিয়োজিত তিন নারী কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নূর ইসলাম চাচাকে আর রান্নাঘরে আসতে দেওয়া হয় না। এখন তিনি হাসপাতালে এসে হাজিরা খাতায় সই করেন। এরপর রান্নাঘরের বাইরে কিছু সময় বসে থেকে চলে যান। এখন আর তিনি রান্নাঘরে ঢোকেন না। স্যাররাও বলে দিয়েছেন, কফ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত উনি যেন আর রান্নাঘরে প্রবেশ করতে না পারেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু আলেমুল বাশার বলেন, ‘নূর ইসলাম এখন আর রান্নাঘরে যান না। তিনি রান্নাঘরের বাইরে বসে কাজ তদারক করেন। খুব শিগগিরই তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।’
এর আগে একই কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘যক্ষ্মা এমন কোনো রোগ নয় যে চিকিৎসা নিলে ভালো হয় না। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাচ্ছেন। দুই মাস পার হয়েছে, তিনি এখন সুস্থ।’
তবে নূর ইসলাম নিজেই জানিয়েছিলেন, যক্ষ্মা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ওষুধ খাচ্ছেন তিনি। দুই মাস পর ফলোআপ করার কথা থাকলেও তিনি এখনো ফলোআপ পরীক্ষা করাননি।
হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, নূর ইসলামকে আপাতত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখায় তাঁরা খানিকটা স্বস্তিবোধ করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যক্ষ্মা মারাত্মক একটি ছোঁয়াচে রোগ। সাধারণত হাঁচি, কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। নিয়মিত ওষুধ খেলেও রোগটি সম্পূর্ণ ভালো হতে ৬ থেকে ৮ মাস সময় লাগে। তবে নিয়মিত ওষুধ সেবনের ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ রোগীর সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেকাংশে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে যদি ওষুধ নিয়মিত না খাওয়া হয়, ওষুধ প্রতিরোধী (ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট) যক্ষ্মা থাকে বা চিকিৎসায় সাড়া না মেলে, তাহলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি দীর্ঘদিন থাকতে পারে।