হোম > সারা দেশ > রংপুর

সেশনজট নিরসনসহ ৫ দফা দাবিতে বেরোবিতে আমরণ অনশন

বেরোবি প্রতিনিধি 

সেশনজট নিরসনসহ ৫ দফা দাবিতে বেরোবিতে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সেশনজট নিরসনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২-এর প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—স্নাতক চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা নভেম্বরের মধ্যে এবং দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করা, প্রতিটি সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ফল, নম্বর বা মূল্যায়নে বৈষম্য কিংবা প্রতিহিংসামূলক আচরণ না করা এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশাসনের লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া।

শিক্ষার্থীরা জানান, দ্রুত ফল প্রকাশসহ একাডেমিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ করে সেশনজট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা গত বছরের নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়। কিন্তু পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ মাস পার হলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ ১০ মাস ফল প্রকাশ না হওয়ায় তাঁদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সেশনজটের কারণে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও ব্যাহত হচ্ছে।

ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বিভাগে কিছুটা সেশনজট রয়েছে। পাঁচটি ল্যাব প্রয়োজন হলেও বর্তমানে দুটি রয়েছে। তবে কয়েক দিন আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা হঠাৎ কেন অনশনে বসেছেন, তা আমার জানা নেই।

এদিকে ১০ মাসেও ফল প্রকাশ না হওয়ার বিষয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোছা. সিফাত রুমানা বলেন, পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সব কাজ আমার একার নয়। অনেক শিক্ষক ফলাফল জমা দিতে দেরি করায় ফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। আশা করছি, আজকের মধ্যেই ফল প্রকাশিত হবে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সংকট ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় আছে। আমরা ছয় মাসের মধ্যে একটি সেমিস্টার শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি। প্রয়োজনে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনেও ক্লাস করতে শিক্ষার্থীরা রাজি হয়েছেন। আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে।’