হোম > সারা দেশ > রংপুর

সিদ্দিককে হত্যার পর বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে দুই বন্ধু

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের হারাগাছে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাজু ও হাফিজুলকে আদালতে পাঠিয়েছে পিবিআই। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের হারাগাছ পৌর শহরের চরচতুরা গ্রামের নির্জন সড়কে রাজমিস্ত্রি আবু বক্কর সিদ্দিককে (৩৫) গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যার পর সাজুর বাড়িতে গিয়ে ঘরে বসে দুই বন্ধু ইয়াবা সেবন করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন লালমনিরহাট সদরের কালমাটি মিলনবাজার এলাকার নুর ইসলামের ছেলে সাজুল মিয়া সাজু (২৮) ও একই উপজেলার বাঁশদশ মিলনবাজার আশিরভিটার আমিনুল ইসলামের ছেলে হাফিজুল ইসলাম (২০)। তাঁরা সম্পর্কে বন্ধু।

নিহত যুবক আবু বক্কর সিদ্দিক কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারী হকেরবাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নুরে আলম জানান, গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আবু বক্কর সিদ্দিককে হত্যা করা হয়। রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চায়নিজ কুড়াল উদ্ধার করে হারাগাছ থানা-পুলিশ। খবর পেয়ে রাতেই পিবিআই ওই এলাকায় পৌঁছে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতেই সাজুকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যে পর দিন অভিযুক্ত সাজুর বন্ধু হাফিজুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা সিদ্দিককে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এর আগে ঘটনার দিন রাতেই জড়িত সন্দেহে সাজুর স্ত্রী মুন্নি বেগমকে আটক করা হয়। গতকাল সোমবার মুন্নিকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

নুরে আলম আরও বলেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সাজুর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করেন সিদ্দিক। সাজু এতে নিষেধ করেন সিদ্দিককে। তারপরও সাজুর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সিদ্দিক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজু রোববার রাতে সিদ্দিককে মিলনবাজারে আসতে বলেন। সিদ্দিক সেখানে যাওয়ার পর তাঁকে চরচতুরা গ্রামের সীমান্তে নির্জন সড়কে নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেন সাজু ও তাঁর বন্ধু হাফিজুর। সিদ্দিকের কপালে কোপানোর সময় কুড়ালের আঘাতে সাজুর বাম পা কেটে রক্তাক্ত জখম হয়।

পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা বলেন, সিদ্দিকের মৃত্যু নিশ্চিতের পর তাঁরা পাশের একটি পুকুরে রক্তমাখা চায়নিজ কুড়ালটি পরিষ্কার করে বালুর নিচে পুঁতে রাখেন। এরপর সাজুর বাড়িতে গিয়ে ঘরে বসে দুই বন্ধু ইয়াবা সেবন করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত না থাকায় সাজুর স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানায় গত রোববার রাতেই সিদ্দিকের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।

পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত ইস্যুর জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সাজু ও হাফিজুল দুজনই সিদ্দিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।