রংপুরের কাউনিয়ায় বেইলি ব্রিজের নিচে পানিতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার যুবক মতিউর রহমান (২৬) মারা গেছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে উদ্ধারের পর প্রথমে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত মতিউর রহমান পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার ছোট ধাপ এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার এসআই সাদ্দাম হোসেন বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিষজাতীয় কিছু খাওয়ার কারণে মতিউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কাউনিয়া থানার এসআই ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় লোকজন উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু এলাকায় বেইলি ব্রিজের নিচে পানিতে অচেতন অবস্থায় এক যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। ওই সময় যুবকটি মুখে কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ব্রজ গোপাল কর্মকার আরও বলেন, উদ্ধারের সময় যুবকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে নিজ বাড়ি থেকে বের হন মতিউর। এরপর তাঁর আর সন্ধান পাচ্ছিলেন না স্বজনেরা। পরে কাউনিয়ায় বেইলি ব্রিজের নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে আসেন।
কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মেহেদি হাসান বলেন, শনিবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন অচেতন অবস্থায় এক যুবককে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তিনি বিষজাতীয় কোনো পদার্থ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অনেক আগে বিষ খাওয়ার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় মতিউরের চাচা দুলাল মিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার কাউনিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই ব্রজ গোপাল কর্মকার।