হোম > সারা দেশ > রংপুর

‘ধানখেতে মাছ চাষের গুরু’ গোলজার

শিপুল ইসলাম, রংপুর 

তারাগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের গোলজার হোসেনের ধানখেত থেকে মাছ ধরছেন শ্রমিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের গোলজার হোসেন একসময় অভাবের তাড়নায় দিনমজুরি করতেন। এখন তিনি এলাকায় পরিচিত ধানখেতে মাছ চাষের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে। তাঁর উদ্যোগে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, সচ্ছলতা এসেছে গ্রামের আরও অনেক পরিবারেও।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের ইকরচালী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে এখন ধানখেতেই মাছ চাষের দৃশ্য চোখে পড়ে। সবুজ ধানের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মাছ। ধান ও মাছের এই সমন্বিত চাষ এখন গ্রামের পরিচিত কৃষিপদ্ধতি।

৫০ বছর বয়সী গোলজার হোসেন দুই দশক ধরে ধানখেতে মাছ চাষ করছেন। স্থানীয়রা তাঁকে ‘ধানখেতে মাছ চাষের গুরু’ বলেই চেনেন। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে গ্রামের অনেক কৃষক এখন ধানের পাশাপাশি মাছ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন।

গোলজার হোসেন জানান, ১৯৭৫ সালে জন্ম তাঁর। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেজ। বাবার অভাবের সংসার, তাই লেখাপড়া করা হয়নি। ১৯৯৮ সালে বিয়ে করেন পাশের হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কুঠিয়ালপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে নীলুফা বেগমকে। বিয়ের পর পরিবার তাঁকে আলাদা করে দিলে সংসারে দেখা দেয় অভাব। তাঁর কষ্টের কথা শুনে ২০০৫ সালে কুঠিয়ালপাড়া গ্রামের এনামুল হক ধানখেতে মাছ চাষের পরামর্শ দেন। গোলজার হোসেন এক একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধানের খেতে মাছের চাষ করেন। প্রথম বছরেই ধান ও মাছ বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ হয়।

এরপর পুরোপুরি ধানখেতে মাছ চাষ ও জমির আইলে লিচু চাষে লেগে পড়েন তিনি। প্রথম বছরের লাভের টাকা দিয়ে পরের বছরে দুই একর জমি বর্গা নেন। সেবারও তাঁর ধানে ফলন ভালো হয়। ধান ও খেতের মাছ বিক্রি করে আয় করেন তিন লাখ টাকা। এভাবে একপর্যায়ে চাষের জমি বাড়ে, আয় বাড়ে। দিনমজুর থেকে গোলজার হয়ে ওঠেন সফল চাষি। কেনেন তিন একর জমি, তৈরি করেন পাকা বাড়ি।

এখন তাঁর চার সন্তান লেখাপড়া করছে। এবার পাঁচ একর জমিতে ধানখেতে মাছ চাষ করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুই একর জমি থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার ধান ও মাছ বিক্রি করেছেন। বাকি জমি থেকে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছেন।

গোলজারের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের অনেকেই ধানখেতে মাছ চাষ শুরু করেছেন। একসময় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত মফিজার রহমান এখন নিজের জমিতে ধান ও মাছ চাষ করছেন। আবুজার হোসেনও এই পদ্ধতিতে সফল হয়ে পুকুর, হাঁসের খামার ও গবাদিপশুর খামার গড়ে তুলেছেন।

গ্রামের শিক্ষিত যুবক মজিদুল হক বলেন, ‘ধানখেতে মাছ আর হাঁসের সমন্বিত চাষ করছি। মাছের খরচেই ধান চাষ হয়ে যায়। এতে লাভও বেশি।’

গোলজার হোসেনের মতে, যে জমিতে অন্তত তিন ইঞ্চি পানি ধরে রাখা যায়, সেখানে মাছ চাষ সম্ভব। জমির চারপাশের আইল উঁচু করতে হয় এবং ধান রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে মাছের পোনা ছাড়তে হয়। শিং, মাগুর, তেলাপিয়া, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্প চাষে ভালো লাভ পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ধানখেতে মাছ চাষ করলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। মাছ ক্ষতিকর পোকামাকড়ের ডিম খেয়ে ফেলে, ফলে পরিবেশও ভালো থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীবা রানী রায় বলেন, ‘ধানখেতে মাছ চাষে ধানের ফলন বাড়ে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমে। এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।’

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, গোলজার হোসেন এই এলাকার মডেল কৃষক। তাঁর দেখানো পথে এখন অনেকেই ধানখেতে মাছ চাষ করছেন। এতে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদনও বাড়ছে।

পায়রাবন্দে হচ্ছে না রোকেয়া স্মৃতি ভাস্কর্য ‘জাগ্রত জননী’

বেরোবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগ

বেরোবিতে ভর্তি ফি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি প্রদান শিক্ষার্থীদের

রংপুরে কৃষকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

ছোট কাঁধে বড় দায়: ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণে খেলনা বিক্রি করে রাশেদুল

ওরা কাক আব্বা কয়া ডাকবে?

পীরগঞ্জে সেচ ঘর থেকে পা বাঁধা কৃষকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

বদরগঞ্জে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩

রংপুরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

৩৭ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে কারমাইকেলের শিক্ষার্থীরা