রংপুরের তারাগঞ্জে পানি নিষ্কাশনের নালার মুখে বাঁধ দেওয়ায় শত একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মো. খলিল নামের এক ব্যক্তি মাছ চাষের জন্য নালার মুখে বাঁধ দিয়েছেন। বাঁধ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ শনিবার রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।
আজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারাগঞ্জ চৌপথী এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ফলিমারীর দোলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ একর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। সাধারণত বর্ষার পানি ফলিমারী বিল হয়ে সতীপাড়া ঘাট দিয়ে চিকলী নদীতে নেমে যায়। কিন্তু এবার সেই পথে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি জমে অন্তত ১০০ একর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পানি নিষ্কাশন না হলে এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ফলিমারীর মাঠজুড়ে থইথই পানি। পানির ওপর ধানের শিষ ভেসে আছে। পানি নিষ্কাশনের নালার মুখে বাঁধ দিয়ে নেটজাল দিয়ে ঘিরে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
কৃষক গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘আমার ১০ একর জমির ধানে গলাপানি। দ্রুত পানি সরানো না গেলে সব ধান নষ্ট হয়ে যাবে।’ আরেক কৃষক সামছুল হক বলেন, ‘আমার ৫ একর জমির ধানখেতের শুধু শিষ ভেসে আছে। আজ বৃষ্টি হলে পুরো খেত পানিতে ডুবে যাবে। সময়মতো পানি সরানো না হলে পুরো ফসলই পচে যাবে।’
একইভাবে কৃষক লোকমান হোসেন বলেন, ‘গত বছরও বাঁধ দেওয়ায় ধান তলিয়ে গেছিল। এ বছরও ধানের গলায় পানি, শুধু শিষ ভেসে আছে। এখন নালার বাঁধ না কাটলে দোলার ১০০ থাকি ১৫০ একর জমির ধান পুরোপুরি তলিয়ে পচে নষ্ট হবে। বৃষ্টির পানি নামার বিকল্প পথ না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে বাঁধ দেওয়া ব্যক্তি মো. খলিল বলেন, ‘আমি মাছ চাষের জন্য বাঁধ দিয়েছি। এটি সরকারি কোনো খাল নয়। ওই নালা দিয়ে পানি গেলে আমার জমির ফসলের ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার মাছ ছাড়া আছে। ক্ষতিপূরণ দিলে আমি পানি ছেড়ে দিব। কিন্তু তাঁরা সেটা শোনে না। গত বছরও ক্ষতিপূরণ দেয় নাই। বোরো ধান উঠলে সবাই যদি পানি যাওয়ার জায়গা দেয়, আমিও দিব।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জেনে গতকাল কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলাম। আজ গিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। খলিলকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাঁধ কেটে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেহেতু মাছ আছে, তাই জাল দিয়ে নালা তৈরি করে পানি নিষ্কাশন করা হবে।’