রংপুর বিভাগের আট জেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। জনবলের অভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুবুরিরা যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন শুধু মরদেহই অপেক্ষা করে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিসগুলোতে পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও কোনো ডুবুরি নেই। এসব জেলায় সেবা দেওয়ার জন্য রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে যে ডুবুরি দল রয়েছে তারাই ৮ জেলায় চষে বেড়ায়। ফলে তাদের বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। চলতি বছরের ৬ জুন পর্যন্ত রংপুর বিভাগে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় মোট ২২টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ডুবুরি দল উদ্ধার করেছে ২৩ জনের মরদেহ।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকৃত দুর্ঘটনার সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু না হওয়ায় জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় অসংখ্য নদ-নদী ও জলাশয় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব অঞ্চলে বন্যা ও নৌকাডুবির ঝুঁকি বেড়ে যায়। গত দুই মাসেই অর্ধশতাধিকের বেশি পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ডুবুরি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। এই সময়ের ব্যবধানই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে।
একজন ডুবুরি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনেক সময় আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা ধরে নেন আমরা দেরি করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক জায়গায় নদী পার হয়ে যেতে হয়, আবার দূরত্বও বেশি। তখন শুধু মরদেহ উদ্ধার করেই ফিরতে হয়।
বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেইনার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর বড় একটি অংশই প্রতিরোধযোগ্য। সাঁতার শেখা, শিশুদের নজরদারিতে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো গেলে অনেক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
সুজনের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুর বিভাগের মতো একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পাঁচজন ডুবুরি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে ডুবুরি ইউনিট থাকা জরুরি।
এ বিষয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘আমাদের ৫ জন ডুবুরি আছেন। যাঁরা ফায়ার ফাইটার আছেন তাঁদেরও ডুবুরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের নিয়ে দুইটা টিম গঠন করা হয়েছে। দুই জায়গায় ঘটনা ঘটলে তাঁদের পাঠানো হয়।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডিজি মহোদয় ডুবুরি পদ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।’