রংপুরের তারাগঞ্জে একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শাসনের নামে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের পর দুই দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েও সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক হলেন উপজেলার শ্যামগঞ্জ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাজু আহমেদ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছয় ছাত্রী প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ৭ মে ও ২০ মে দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করছিলেন। বিভিন্ন সময় শাসনের কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাদের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করতেন এবং আপত্তিকর আচরণ করতেন। বিষয়টি তারা একাধিকবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তারা সরাসরি ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও মোনাব্বর হোসেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর সরকার বলেন, ছয় শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক সাজুকে দুবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না আসায় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাঁকে আজ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাজু আহমেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। ছাত্রীদের শাসন করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ দিয়েছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তাই ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’