রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ১৩ মাস আগে জব্দ করা ১৮৩ বস্তা চাল অভিযুক্ত চাল ব্যবসায়ী বাপ্পি কুণ্ডুকে দিয়ে দিল খাদ্য বিভাগ। গত সোমবার দুপুরে ওসিএলএসডি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে বাপ্পি কুণ্ডুর হাতে চালের বস্তাগুলো তুলে দেন উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ এবং গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়হান কবির। চাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা না করে উল্টো তাঁর হাতে ওই চাল তুলে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ২০ মে রাতে বদরগঞ্জ সরকারি গুদাম থেকে ১৫৬ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ৩০ কেজির) মধুপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘরা এলাকার বাপ্পি কুণ্ডুর গদিঘরে পাচার করা হচ্ছিল। এ সময় গদিঘরের উঠানে ট্রলিভর্তি চাল আটক করে ছাত্র সমন্বয়ক ও এলাকাবাসী। পরে তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে গুদামের সিলমোহরযুক্ত ১৫৬ বস্তা চাল জব্দ করেন। পরদিন আবারও ইউএনও অভিযান চালিয়ে ওই গদিঘরের ভেতর থেকে সরকারি গুদামের সিলমোহরযুক্ত ২৭ বস্তা চাল জব্দ করেন। দুই দিনে জব্দ করা ১৮৩ বস্তা চাল সরকারি গুদামে জমা দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় গদিঘরের মালিক বাপ্পি কুণ্ডুর বিরুদ্ধে মামলা করতে খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহকে নির্দেশ দেন মিজানুর রহমান।
সোমবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, চাল যখন জব্দ করা করা হয় তখন বাপ্পি বলেছিলেন, এই চাল তাঁর নয়। এখন আবার সেই চাল নিজের বলে ভাউচার দেখাচ্ছেন। সেদিন কেন ইউএনওকে তা দেখাতে পারেননি। এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি।
উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ বলেন, ‘চালগুলো ইউএনও সরকারি চাল ভেবে বাইরে থেকে উদ্ধার করে গুদামে রেখেছিলেন। আমি তদন্ত করে দেখেছি, চালগুলো আমার গুদামের কিংবা ভিডব্লিউবির নয়।
এসব চাল গুদামে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় গুদামের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছিল। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে চালের প্রকৃত মালিক বাপ্পি কুণ্ডুকে ডেকে এনে দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, ‘বর্তমান ইউএনও স্যার চাল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছুই বলেননি। তবে আগের ইউএনও মিজানুর রহমান স্যার আমাকে একটা চিঠি দিয়ে গেছেন, সেই চিঠিতে মতামতের ভিত্তিতে চালগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়।’
লিখিত নির্দেশনা দেওয়ার দাবি নাকচ করে তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকারি খাদ্যগুদামের সিলমোহরযুক্ত ১৮৩ বস্তা চাল উদ্ধার করে গদিঘরের মালিক বাপ্পির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। চাল ছেড়ে দেওয়ার এখতিয়ার খাদ্য কর্মকর্তা রাখেন না।’ তিনি বলেন, ‘চাল মালিকানা নাকি সরকারি—এটা আদালতে প্রমাণিত হবে।’
উপজেলা বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘আমি চাল ছেড়ে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা দিইনি। খাদ্য বিভাগ কীভাবে চাল ছেড়ে দিল, সেটা তাদের কাছেই জানতে চান।’
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সেখানকার কিছু চাল নিলামের জন্য ইউএনও আমার কাছে প্রতিনিধি চেয়েছিলেন। এটা সেই চাল কি না জানি না।’ এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আসলে আমি খাদ্য বিভাগের আইন বুঝতে পারছি না, কেন চাল আটক করা হলো, আবার কেনইবা মামলা না করে চাল ছেড়ে দেওয়া হলো। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’