রংপুরের পীরগঞ্জে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে। আজ রোববার দুপুরে চতরা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষককে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরলিয়া টিএম ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাদন ব্যবসার টাকা নিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে আজ দুপুরে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী ওই শিক্ষককে চতরাহাট সোনালী ব্যাংক থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে তাঁর (আ.লীগ নেতা) ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া বস্ত্র বিতানে নিয়ে যান। সেখানে বেধড়ক মারধর ও ভয়ভীতি দেখালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিএনজিযোগে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসক।
আহত শিক্ষকের স্ত্রী বলেন, ‘সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা বর্তমানে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমূল হক বলেন, ‘শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে একজন শিক্ষকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ জনগণ। তাঁরা অবিলম্বে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।