হোম > সারা দেশ > রংপুর

হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করেছি: কর্মচারীকে হত্যার পর অভিযুক্ত মনু

রংপুর প্রতিনিধি

ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুর নগরীতে একটি হোটেলের কর্মচারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর নিজের মুখেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু। ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করেছি।’

গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকার একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন (২৫) ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন। তাঁর বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামে। চার বছর ধরে ওই হোটেলে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হোটেলে পরিষ্কার করা বাসনপত্র রাখার স্থানে পানের পিক ফেলা নিয়ে শাওনের সঙ্গে মালিকপক্ষের ছেলে মিজানুর রহমান মনুর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মনু একটি হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে পরপর দুটি আঘাত করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন মনু মিয়াকেও আটক করে পুলিশে দেয়।

ডিবি হেফাজতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্লেট-বাসন যেখানে আমি রাখি, ওইখানে টিস্যুও থাকে। সব সময় যত্ন করি, পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। ওইখানে পানের পিচকি (পিক) ফেলায় কলিজায় আঘাত লাগে। তখনই আমি ওই কামটা হুট করি আসি গেইছে। হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করছি।’

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়ার পর প্রায় আধা ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা আমির হোসেন। তিনি বলেন, ‘মনুর মানসিক সমস্যা আছে। ও আগে ভালো ছিল। ওকে তিন চিল্লাহ পাঠাইলাম। তিন চিল্লাহ থেকে আসার পর ওর বিশাল সমস্যা। পরে সে মার্কাজ মসজিদে ছিল। সেখানে অনেক কবিরাজ ও মসজিদের লোকজন ঝাড়ফুঁক করে অনেক দূর ঠিক করছে। এখনো সে মাঝেমধ্যে মার্কাজে যায়, তার মানসিক অবস্থা ঠিক থাকে না। আমি তাকে অনেক ধমক দিয়ে রাখি।’

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খামার মোড় এলাকায় ফুটপাতে ওই হোটেলের মালিক আমির হোসেন ও তাঁর তিন ছেলে ব্যবসা পরিচালনা করেন। সেখানে শাওন কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। সন্ধ্যার পর মিজানের সঙ্গে শাওনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজান হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে দুই থেকে তিনটি আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের কাছেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।

অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘সে মানসিক রোগে ভুগছেন, এমন কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত মনে হয়নি। নিহত শাওনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রংপুরে হাতুড়ি দিয়ে দোকানের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা

মিঠাপুকুরে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করা শুরু

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে উলিপুরে ছাত্রদলের মিছিল

অক্সিজেন না দেওয়ায় রমেকে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের মহাসড়ক অবরোধ

গঙ্গাচড়ায় এনসিপির কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, জাপা নেতা-কর্মীদের প্রাধান্যের অভিযোগ

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কার্যক্রম: তথ্য যাচাই ও গণশুনানি

বদরগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষিশ্রমিকের মৃত্যু

বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে রংপুর বিভাগে শ্রেষ্ঠ পীরগঞ্জের কাব্য

রংপুরে ৬ ছাত্রীর অভিযোগে শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

পীরগঞ্জে পুণ্য খালের দুই তীরে ৭ হাজার গাছের চারা রোপণ শুরু