রংপুরের পীরগঞ্জে আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির সব ধরনের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্বজনদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের প্রজাপাড়ার রিকশাচালক মতিয়ার রহমানের ১৯ বছর বয়সী গর্ভবতী মেয়ে শ্রাবণীর প্রসববেদনা উঠলে তাঁর মা শিমা বেগম তাঁকে নগর মাতৃসদনে ভর্তি করান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা নগদ নেওয়া হয়। এরপর প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় অপারেশন থিয়েটারেই পেটের সন্তানসহ শ্রাবণীর মৃত্যু হয়।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা কৌশল অবলম্বন করেন বলে অভিযোগ স্বজনদের। শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমানকে ওষুধ কেনার অজুহাতে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর ফাঁকে মৃত শ্রাবণীর মুখ কাপড়ে ঢেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে তড়িঘড়ি করে রংপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শ্রাবণীর বাবা মতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কী ঘটেছে তারা আমাদের কিছুই বুঝতে দেয়নি। মেয়ের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, আমার মেয়ে অনেক আগেই মারা গেছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
তবে সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগর মাতৃসদনের ব্যবস্থাপক ডা. মো. আহসানুল আবেদীন মামুন। অন্যদিকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, প্রকল্পটির নানা অনিয়মের কারণে পূর্বে একাধিকবার কার্যক্রম বন্ধের মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও তারা তা অমান্য করে সেবা চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার বিষয়ে পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাতৃসদন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনার সঠিক তদন্তের স্বার্থে নগর মাতৃসদনের যাবতীয় কার্যক্রম আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।