রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের বরাদ্দ অর্থ নিয়ে নামমাত্র ও দায়সারা কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কয়েকজন ইউপি সদস্য নিজেদের ইচ্ছেমতো এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছেন, যার বিষয়ে খোদ ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কিংবা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাও কিছুই জানেন না।
সরকারি বিধি অনুযায়ী, উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নির্বাচন করতে হবে। এরপর উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদ টেন্ডার কিংবা আরএফকিউর মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করবে। নিয়ম অনুযায়ী, কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কাজ শুরুর আগেই জিপিএস ক্যামেরায় ছবি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
অথচ কুমেদপুর ইউনিয়নের তিন ইউপি সদস্য দেবব্রত অধিকারী দেবু, নুরুল ইসলাম ও আনিছার রহমান এই নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করছেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমেদপুর ইউনিয়নে বরাদ্দ ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকার বাস্তবায়িত পৃথক তিনটি প্রকল্পে সরেজমিন অনুসন্ধানে চরম অনিয়ম ও জোড়াতালির চিত্র দেখা গেছে।
কাঞ্চনপুর গ্রামে শহিদুলের বাড়ি হতে পুরোনো মসজিদ এবং পাকা রাস্তা থেকে মুন্নার বাড়ি পর্যন্ত পাইপ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেবব্রত অধিকারী দেবু নতুন কোনো কাজ না করে আগের করা একটি কাজকে কেবল জোড়াতালি দিয়ে শেষ করেছেন এবং সম্পূর্ণ বিল তোলার জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু প্রাক্কলনের সঙ্গে এই কাজের কিংবা কাজের সঙ্গে উত্তোলিত বিলের কোনো মিল নেই।
৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিঠারপাড়া মহিদুলের বাড়ি থেকে আখিরা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা সলিংকরণ কাজে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউপি সদস্য আনিছার রহমান নিজের মতো করে এই কাজ শেষ করে বিলের জন্য আবেদন করেছেন।
১ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদপুর তালিমখানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা রাস্তা থেকে বাবুল মাস্টারের বাড়িগামী রাস্তা সংস্কার ও সলিংকরণে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা নিয়ে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এই অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চরম সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চিত্র পাওয়া যায়। প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের কাজ, অথচ আমি নিজেই জানি না। কাজের উদ্বোধন হলো কবে? কবে শেষ হলো? টেন্ডার বা আরএফকিউ কবে হলো? এসব আমি কিছুই জানি না।’
উপসহকারী প্রকৌশলী মোকলেছার রহমান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমি শুধু প্রাক্কলন (এস্টিমেট) করে দিয়েছি। কিন্তু কবে কাজ শুরু হলো, কবে শেষ হলো—এসব আমি জানিই না। নিয়মবহির্ভূত এই কাজের প্রত্যয়নপত্রে (সার্টিফিকেট) আমি কোনো অবস্থাতেই স্বাক্ষর করব না।’
ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৌমিক হাসান জানান, কাজ শুরুর আগে নিয়ম অনুযায়ী জিপিএস ক্যামেরা দিয়ে ছবি সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও এই কাজগুলো সম্পর্কে তাঁর কাছে দাপ্তরিক কোনো তথ্য নেই।