রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এক অটোরিকশাচালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মোকলেছুর রহমান (৫৫)। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের কাউয়াফান্দা এলাকায় পুলিশ সদস্য নওশা মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোকলেছুর রহমান গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির কাজ শেষ করে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হন মোকলেছুর। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক পথচারী গাড়ির আলোর ঝলকে সড়কের পাশে একটি বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তিনি ছটফট করছিলেন। বাড়ির গেটেও রক্তের ছাপ ছিল।
পথচারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোকলেছুরের পরিচয় শনাক্ত করে। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে ঘটনাস্থলে তাঁর অটোরিকশাটি ছিল না।
স্থানীয়দের ধারণা, গেটে থাকা রক্তের ছাপ দেখে মনে হচ্ছে, গুরুতর আহত অবস্থায় মোকলেছুর নিজেকে বাঁচাতে ওই বাড়ির গেটে গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন।
বাড়ির মালিক নওশা মিয়ার স্ত্রী বলেন, ‘গেটে লাগা রক্ত দেখে মনে হচ্ছে লোকটি নিজেকে বাঁচানোর জন্য আমাদের গেটে এসে ডাকছিলেন। আমরা ঘরের ভেতর থেকে বুঝতে পারিনি। পরে চিৎকার-চেঁচামেচিতে বাইরে এসে তাঁকে এই অবস্থায় দেখি।’
তবে নিহতের ছেলে মিজানুর রহমানের দাবি, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়নি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ভাই মমিনুর ইসলামও একই দাবি করে জানান, জমি নিয়ে বিরোধের একটি মামলায় ১৩ আগস্ট আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন মোকলেছুর। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের এক ব্যক্তি তাঁকে গলা কাটার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই বিরোধের জেরেই তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের স্বজনেরা। সেকেন্দার মিয়ার ছেলের স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের মামলা চলছে, তাই বলে আমরা কেন তাঁকে হত্যা করতে যাব? সবাই বলছে অটো ছিনতাইয়ের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।’
গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ‘আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অটোরিকশাটি না পাওয়ায় আমাদের প্রাথমিক ধারণা—দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাঁকে হত্যা করেছে। তবে পরিবারের অভিযোগসহ সম্ভাব্য সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হবে।’