হোম > সারা দেশ > রংপুর

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে ঝুঁকিতে শতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি, স্থাপনা

 গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

তিস্তা নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা। ক্রমাগত নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর, ফসলি জমিসহ নানা স্থাপনা। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় ৯টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। সেই সঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়েছে স্থানীয় হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন স্থাপনা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। নদীর পাড়জুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার তীরজুড়ে চলছে অব্যাহত ভাঙন। কোথাও বসতভিটার একাংশ ধসে নদীতে পড়ছে, কোথাও নদী এসে ঠেকেছে বাড়ির উঠানে। অনেক পরিবার ঘরের টিন, কাঠ, বাঁশ, কংক্রিটের খুঁটি ও প্রয়োজনীয় মালামাল খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীতে বিলীন হতে দেখে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত সোমবার থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। গতকাল মঙ্গলবার পানি কমতে থাকলেও শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে তলিয়ে যায় ৯টি বসতবাড়ি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড।

স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত প্রায় দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ একটি বালুর বাঁধ এত দিন চর নোহালী, সুফিয়ারপাড়া, মেম্বারপাড়া, মিনারবাজার, আশ্রয়ণ বাজার ও সখের বাজারসহ আশপাশের এলাকা রক্ষা করছিল। এক সপ্তাহ আগে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত মোতালেব হোসেন বলেন, ‘তিস্তার ভাঙনে আমার ৪৫ দোন আবাদি জমি, ৮০ শতক বসতভিটা ও সাত দোনের একটি পুকুর নদীতে চলে গেছে। বহু বছরের কষ্টে গড়া সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ২০ দোন আবাদি জমির সঙ্গে বসতবাড়িটাও নদীতে চলে গেছে। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এখন মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই।’

চর বাঘডহড়া এলাকার বাসিন্দা আজিনুর রহমানের অভিযোগ, স্থানীয়দের নির্মিত বাঁধে প্রথম ভাঙন দেখা দেওয়ার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিলে এত বড় ক্ষতি হতো না। তিনি বলেন, ‘এখনো দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে।’

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ইতিমধ্যে নয়টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও প্রায় ১০০টি বাড়ি ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

পীরগঞ্জে ক্যাশলেস সেবা নিয়ে মতবিনিময় সভা

গঙ্গাচড়া-রংপুর সড়কের গাছ যেন মৃত্যুফাঁদ

পীরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত হিসেবে যোগ দিলেন তাজুল ইসলাম

নেসকোর প্রধান প্রকৌশলীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লুটপাট-দুর্নীতির অভিযোগ

পীরগঞ্জে ট্রাক্টরের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

রংপুরে নদীতে গোসলে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু

সাপের কামড়ের পরও দেখছিলেন খেলা, ঘণ্টাখানেক পর আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু

পীরগঞ্জে মেয়েকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড: রায়ের দশ বছর পর গ্রেপ্তার বাবা

পীরগঞ্জে সাংবাদিক আনজারুল হকের দাফন সম্পন্ন