হোম > সারা দেশ > রংপুর

মাছের আঁশে নতুন সম্ভাবনা, বাড়ছে শ্রমিকদের আয়

মিফতাহুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (রংপুর)

মাছের আঁশ বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে রংপুরের মিঠাপুকুরের মাছকাটা শ্রমিকদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

মাছ কাটার পর ফেলে দেওয়া আঁশ একসময় ছিল নিছক বর্জ্য। নর্দমা কিংবা আবর্জনার স্তূপে পড়ে থাকত এসব আঁশ। এখন সেই আঁশই বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে রংপুরের মিঠাপুকুরের মাছকাটা শ্রমিকদের। মাছের আঁশ সংগ্রহ করে পরিষ্কার ও শুকিয়ে বিক্রি করছেন তাঁরা। প্রতি কেজি আঁশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে সমকাল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।

মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ি মাছ কাটার শ্রমিক ছামছুল ইসলামও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। মাছ কাটার পর ফেলে দেওয়া আঁশ সংগ্রহ করে তিনি প্রথমে পানি দিয়ে পরিষ্কার করেন। পরে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করেন। এক দিনের রোদেই শুকিয়ে যায় মাছের আঁশ। পরে মাসজুড়ে জমিয়ে তা বিক্রি করা হয়।

ছামছুল ইসলাম বলেন, আগে মাছের আঁশ ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেগুলো সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিক্রি করছেন। এতে মাছ কাটার কাজের পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে।

স্থানীয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারেরা এসে মাছের আঁশ কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে প্রতি কেজি আঁশ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি টনের দাম প্রায় ৮৫ হাজার টাকা।

মাছ কাটার পর আঁশ, পাখনা, লেজ ও ভুঁড়ি সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। তবে মাছের আঁশের রয়েছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। প্রক্রিয়াজাতের পর এটি বিভিন্ন শিল্পপণ্য, খাদ্য ও প্রসাধনীসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ফলে মাছের আঁশকে বর্জ্য হিসেবে না দেখে উপজাত পণ্য হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে স্থানীয় শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বেসরকারি সংস্থা সমকাল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিকভাবে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারলে মাছের আঁশ থেকে আরও বড় পরিসরে আয় করা সম্ভব।

মাছের আঁশকে বর্জ্য থেকে সম্পদে পরিণত করার এই উদ্যোগে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে পিকেএসএফের স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট এগ্রিকালচার কর্মসূচি। পরীক্ষামূলকভাবে তারা ৮-১০ জনকে এ সহায়তা করছেন। সফল হলে বড় পরিসরে কাজ করা হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগে মাছের আঁশ ফেলে দেওয়ায় পরিবেশও নোংরা হতো। এখন শ্রমিকেরা সেই আঁশ সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। এতে একদিকে যেমন বর্জ্য কমছে, অন্যদিকে শ্রমিকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাকিবুর রহমান বলেন, ‘মাছের আঁশ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বাজারজাত করা গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মাছের আঁশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।’

হাকিবুর রহমান আরও বলেন, ‘সঠিক প্রশিক্ষণ, বাজারব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগ যেমন পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, তেমনি বদলে দিতে পারে প্রান্তিক শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা।’