রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর মাহতাবিয়া দ্বি-মুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদায়ী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ সামগ্রী চুরির অভিযোগ উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ৮ জুন (সোমবার) রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবেদুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। বিধি অনুযায়ী, তিনি অবসরে যাওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) শিক্ষক আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে বিশেষ উদ্দেশ্যে ওই বিদ্যালয়ের জুনিয়র কম্পিউটার শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমানকে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব দিয়ে তিনি বিদ্যালয় থেকে চলে যান। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনিয়মের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া জুনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ আমলি আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় তিনি এর আগে ১৩ দিন জেলহাজতেও বাস করেছিলেন। একজন বিচারাধীন মামলার আসামিকে সিনিয়রদের টপকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমারই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পাওয়ার কথা ছিল। অথচ সমস্ত নিয়মকানুন ভেঙে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে একজন জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’
বিদায়ী শিক্ষক আবেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল পদ হস্তান্তরের অনিয়মই নয়, অবসরে যাওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) সরঞ্জাম রাতের আঁধারে খুলে নিয়ে যাওয়ারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা পড়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত সোলার লাইট, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মালামাল রাতের অন্ধকারে খুলে গায়েব করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী পাভেল ও বিপ্লব জানান, ঘটনার রাতে আনুমানিক ৭টার দিকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান আবেদুল ইসলাম তাঁদের ডেকে পাঠান। এরপর প্রধান শিক্ষক নিজে উপস্থিত থেকে স্কুলের সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত মালামালগুলো খুলে পূর্ব থেকে প্রস্তুত রাখা একটি অটোরিকশায় তুলে তাঁর নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবেদুল ইসলাম মালামাল খুলে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি অদ্ভুত দাবি করে বলেন, ‘মালামাল আমি খুলে নিয়ে এসেছি ঠিকই, কিন্তু তা আমার বাড়িতে রাখিনি।’
এ প্রসঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র শিক্ষক কর্মরত থাকতে একজন জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রসুলপুর মাহতাবিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনিয়ম ও মালামাল সায়ানোর বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’