রংপুরের তারাগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী (৯) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মুজাহিদ ইসলাম (১৮) পুলিশের কাছে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারাগঞ্জ থানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এই তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘শুক্রবার শিশুটিকে তার মা বকুনি দিলে সে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। জুমার নামাজের পর শিশুটি রাস্তা দিয়ে পাটখেতের কাছাকাছি পৌঁছালে আসামি মুজাহিদ কৌশলে তাকে পাটখেতের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে একটা ভিডিও দেখায় এবং তাকে ধর্ষণ করে। শিশুটি যখন চিৎকার করতে থাকে তখন মুজাহিদ শিশুটির বুকের ওপর বসে দুই হাত দিয়ে গলা টিপে ধরে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুজাহিদ ইসলামকে গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভীমপুর কোরানীপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মুজাহিদ ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন এবং দায় স্বীকার করেছেন। আজ তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের বকুনির পর শিশুটি বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির অদূরে ডালিয়া সেচ ক্যানেল-সংলগ্ন একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।