রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের নাদনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ছয়জন শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। শিক্ষার্থীর পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাদনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ৩২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২৫ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ২৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ২০ জন, পঞ্চম শ্রেণিতে ২৫ জন রয়েছে। ছয় শিক্ষকের স্থলে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। ফলে এই দুই শিক্ষককেই একাধিক শ্রেণির পাঠদানসহ পরীক্ষা গ্রহণ ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
অভিভাবক রুমি ও মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দুই শিক্ষক একাধিক শ্রেণির দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সব শ্রেণিতে নির্ধারিত সময়ে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কোনো কোনো সময় এক শ্রেণির ক্লাস চলাকালে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া ও কেয়া মনি বলে, ‘স্যার মাত্র দুজন হওয়ায় আমাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না। অনেক সময় ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের সব স্যার থাকলে ভালো হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুজুর আলী মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে সমস্যা হচ্ছে। ছয়টি পদের বিপরীতে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে ১২৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালানো কঠিন। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ স্বাভাবিক হবে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন শাহ্ বলেন, ‘বিদ্যালয়টির শিক্ষকসংকটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। শূন্য পদে শিক্ষক পদায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’