রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। হিমাগারে ভাড়া কেজিপ্রতি ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি মানা না হলে রংপুর অঞ্চলের সব হিমাগারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
আজ বৃহস্পতিবার রংপুর-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে আলু ঢেলে বিক্ষোভ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় সড়কের দুপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে আলুর দাম কম। এর মধ্যে হিমাগারে সংরক্ষণের বাড়তি খরচ কৃষকের লোকসান আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, ৬০ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে বর্তমানে প্রায় ৪২০ থেকে ৪৩৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে কেজিপ্রতি খরচ ৭ টাকার বেশি পড়ে।
কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এবার বৃষ্টির কারণে আলু উৎপাদন ও হিমাগারে পৌঁছানো পর্যন্ত খরচ বেড়ে ২০ টাকা হয়েছে। এখন আলু ১৪ টাকা। হিমাগার ভাড়া ৭ টাকা কাটলে ৭ টাকা হাতে থাকে। এতে ১৩ টাকা কেজিতে লোকসান হচ্ছে।’
আরেক কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, হিমাগারে নেওয়া পর্যন্ত প্রতি কেজি আলুতে ২০-২২ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ টাকা দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। তাঁর ২ হাজার ২০০ বস্তা আলু রয়েছে। গত বছরের লোকসান না কাটতেই এবারও লোকসান। তার ওপর হিমাগার মালিকদের জুলুম।’
আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় হিমাগারের ভাড়া তুলনামূলক কম। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন জেলার সুপারিশে গড়ে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের কথা থাকলেও রংপুরে তা কার্যকর হয়নি। আন্দোলনকারীরা হিমাগার মালিকদের সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন।
রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য নুরুন্নবী হক ভূঁইয়া বলেন, ‘দাবি মেনে না নিলে তাঁরা রংপুর অঞ্চলের সব হিমাগারে তালা লাগানোর কর্মসূচিতে যাবেন। সরকারনির্ধারিত বা সুপারিশ করা যৌক্তিক ভাড়া কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
এর আগে গত ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় এক ঘণ্টার অবরোধে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে তখন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। এরপর ১ জুলাই হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে সাদা কাফন পরে গণ-অনশন করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
ওই সময় জেলা প্রশাসন জানিয়েছিল, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। পরবর্তীতে কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে কমিটি গঠন করে সুপারিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাঁরা কেজিপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ এবং হিমাগার মালিকদের ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙার দাবি জানান। ওই সময় জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে গঠিত কমিটির সুপারিশ ২০ জুলাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।