প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরে এক দিনও হয়নি প্রশিক্ষণ ক্লাস। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কঘেঁষা কালেক্টরেট বামনদীঘি ইকো পার্কের ভেতরে নির্মিত নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের দরজা ভাঙা, বাথরুমের অধিকাংশ ফিটিংস খুলে নেওয়া হয়েছে। পানির ট্যাংক ও সংযোগের পাইপও নেই। ভবনের চারপাশের মাটি সরে গিয়ে ভিত্তির অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলা পরিচালনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে ৩৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। এলজিইডির কারিগরি তত্ত্বাবধানে উপজেলা পরিষদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ দেওয়া। তবে নির্মাণের পাঁচ বছর পার হলেও সেখানে একবারের জন্যও কোনো প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকে কেন্দ্রটি অবহেলায় পড়ে থাকায় ধীরে ধীরে এটি চুরি ও ভাঙচুরের শিকার হয়। বর্তমানে পার্কটিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো নজরদারি না থাকায় একের পর এক মালামাল উধাও হলেও সংশ্লিষ্টদের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বামনদীঘি বাজার এলাকার বাসিন্দা নাহিদুজ্জামান বলেন, লাখ লাখ টাকা উন্নয়নের কথা বলা হলেও এই ভবন নির্মাণের পর থেকে তালাবদ্ধ। কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি। এখন এটি সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠনের নেত্রী জেমিন শেখ বলেন, গ্রামের অনেক নারী প্রশিক্ষণ পেলে উপকৃত হতেন। কিন্তু ভবনটি কোনো কাজে লাগানো হয়নি। এখন এটি ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত স্থাপনা। প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় ভবনটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে আছে। দ্রুত এটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি অব্যবহৃত থাকায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে এটি সংস্কার করে নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর।