রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ব্যবসায়ী মো. মাসুদের দুই দিনেও কোনো সন্ধান মেলেনি। তাঁকে উদ্ধারে কাপ্তাই লেকে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযান চালিয়ে গেলেও আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাসুদ কেপিএমের আওতাধীন কাপ্তাই চিপার হাউসে অস্থায়ী নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ও আশপাশের এলাকায় মৌসুমি ব্যবসা করতেন।
মাসুদের বড় মেয়ে মাইশা আক্তার তমা জানান, শনিবার সকালে ফারুয়া বাজার থেকে নিজস্ব ইঞ্জিনচালিত বোটে করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর বাবার। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও তিনি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, কাপ্তাই লেকের গর্জনটিলা এলাকায় তাঁর বোটটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। তবে মাসুদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
খবর পেয়ে কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন এবং কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাদুল হাসান রুবেল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন।
পরে বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটির লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহ আব্দুল্লাহ নাসেরের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ, ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউসুফ এবং সাধারণ সম্পাদক কামাল হাকিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাসুদ কাপ্তাই লেকে পড়ে যেতে পারেন। তাঁকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে মাসুদের বড় মেয়ে মাইশা আক্তার তমা তাঁর বাবার সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।