রাঙামাটির নানিয়ারচরে নবনির্মিত একটি কালভার্ট যেন জরুরি বিভাগের সংকটাপন্ন রোগী। তবে কোনো লাইফ সেভিং মেডিকেল ইকুইপমেন্ট বা প্রাণ বাঁচানো চিকিৎসা সরঞ্জাম নয়, স্থানীয়দের কেটে আনা বাঁশের খুঁটির ওপর ভর করেই কোনোমতে ‘লাইফ সাপোর্টে’ টিকে আছে কালভার্টটি। উদ্বোধনের পরপরই টানা বৃষ্টিতে এর গাইডওয়াল ধসে পড়েছে, মূল কাঠামোজুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোনো সময় পুরো কালভার্টটি ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নানিয়ারচর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে গত অর্থবছরে কালভার্টটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে প্রথম দফার বৃষ্টিতেই গাইডওয়াল ধসে পড়া এবং মূল কাঠামোতে চওড়া ফাটল দেখা দেওয়ার পর সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
গাইডওয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ায় কালভার্টটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কালভার্টটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত নিজেরাই উদ্যোগ নেন স্থানীয়রা।
জঙ্গল থেকে বাঁশ কেটে এনে কালভার্টটির নিচে অস্থায়ীভাবে ঠেস দিয়েছেন তাঁরা। সেই বাঁশের খুঁটির ওপর ভর করেই কোনোভাবে দাঁড়িয়ে আছে নবনির্মিত কালভার্টটি। অর্থাৎ সরকারি প্রকল্পের একটি স্থাপনা এখন সরকারি মেরামতের অপেক্ষায় নয়, স্থানীয় মানুষের দেওয়া বাঁশের ‘লাইফ সাপোর্টে’ বেঁচে আছে। উন্নয়নের এই অভিনব সংস্করণ অবশ্য মানুষের জীবন নিয়ে বেশ ভয়ংকর রসিকতা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই কালভার্টের বিভিন্ন অংশে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এক পাশের গাইডওয়ালও ধসে পড়েছে। বিষয়টি জানাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের খুঁটি দিয়ে কালভার্টটি ঠেক দিয়ে রাখতে হয়েছে। তারা বলেন, এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কালভার্টটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তখন ব্যবস্থা নিয়ে কী লাভ?
কালভার্টটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং নির্মাণকাজের মান নিয়ে বক্তব্য জানতে এলজিইডির নানিয়ারচর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।